বিশেষ খবর

সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুলঃ শিক্ষা, সেবা গবেষণা ও জনকল্যাণমুখী স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান

ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রতিবেদন
img

ঢাকা মহানগরীর দৈনন্দিন ব্যস্ততা, কোলাহল, শব্দ ও পরিবেশ দূষণ প্রতিনিয়ত ব্যহত করছে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা। ফলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। এই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার সর্বোচ্চ পরিবেশ ও মান নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত অবকাঠামো ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুল। ক্রমাগত সাফল্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অব্যাহত সুনাম অর্জনের মধ্যদিয়ে সুদীর্ঘ ১১টি বছর অতিক্রম করে এই শিক্ষায়তন পদার্পণ করেছে ১২ তম বর্ষে।
প্রধান বৈশিষ্ঠ্য
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈশিষ্ঠ্য হলো- আমাদের দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যমান সময় সাপেক্ষ, একঘেয়েমি ও গৎবাঁধা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিদায় জানিয়ে একটি প্রগতিশীল ও বাস্তবমুখী প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ের সূচনা। আশা করা যাচ্ছে যে, এ মহৎ উদ্যোগ তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা জীবনে সুদৃঢ় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তাদেরকে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভে অনুপ্রাণিত করবে এবং অতি জটিল ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনের চ্যালেঞ্জ সফলতার সাথে অতিক্রম করতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। তদুপরি প্রতিষ্ঠানের একটি সুষম সমম্বিত কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, স্বনির্ভরতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং সকল নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
উদ্দেশ্য
ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি সত্যিকার মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবেই সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রধান কারণ। এ অভাববোধই অত্যন্ত উঁচু মানের একটি পাবলিক স্কুল প্রতিষ্ঠার চমৎকার ধারণা দেয়, যেখানে সর্বস্তরের ছেলেমেয়ে তাদের মেধার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে অধ্যয়নের সুযোগ পাবে। আশা করছি, অতুলনীয় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান চর্চা তাদেরকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে। পরিশেষে, পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও সমতা অর্জনের মাধ্যমে তারা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে মানব জাতির উন্নয়নে কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। এই মুখ্য উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞঃ-
১। ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকগণের মধ্যে মত বিনিময়ের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি।
২। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (আর্মি প্লাটুন) চালুকরণের মাধ্যমে জ্ঞান, শৃংখলা ও মানব সেবার দ্বার উন্মুক্ত করনের ব্যবস্থা করা।
৩। প্রত্যেক স্তরে পাঠ্য পুস্তক নির্ধারণে বোর্ড নির্দেশিত জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ।
৪। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গতিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত Co-curriculum ও Extra-curriculum অনুসরণ।
৫। শিক্ষার্থীরা যাতে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবা প্রদান করতে পারে এবং জাতিকে প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে সক্ষম হয়, সেজন্য দরকার সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা সর্বোচ্চ উন্নতির সুযোগ নিশ্চিতকরণ।
৬। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নৈতিক, সামাজিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উন্নততর সুযোগ নিশ্চিতকরণ।
পাঠ্যক্রম
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত পাঠ্যক্রম হিসেবে উন্নত বিশ্বের আধুনিক শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা হয়। এ কথা অনস্বীকার্য যে, ভাষাই হলো শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম তাই এ প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
ক্লাস
বর্তমানে প্লে-গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এর পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রুপ
বর্তমানে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু রয়েছে।
সিলেবাস
নবম শ্রেণির প্রত্যেক শাখার সিলেবাস ঢাকা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। অন্যান্য শ্রেণির সিলেবাস বোর্ড এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত।
শিফ্টসমূহ
ক) প্রভাতি শাখাঃ প্লে-গ্রুপ,নার্সারি, কে.জি, ১ম ও ২য় (বালক+বালিকা)
৩য়-১০ম (শুধু বালিকা) সকাল ৭:২৫-দুপুর ১২:০০
খ) দিবা শাখাঃ ৩য়-১০ম (শুধু বালক) দুপুর ১২:১৫-বিকাল ৫:০৫
শৃঙ্খলা
যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলা। শৃঙ্খলাহীন প্রতিষ্ঠানকে তুলনা করা যেতে পারে রাডারবিহীন কোনো জাহাজের সঙ্গে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রম-হ্রাসমান, যা পিতামাতা ও অভিভাবকগণকে দারুণভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ থেকে মুক্তির সমূহ কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যেকোনো মূল্যে স্কুলের আইন, বিধিমালা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চত করাই এর লক্ষ্য। সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির পবিত্রতা এবং শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখায় অঙ্গীকারাবদ্ধ।
ছাত্র-ছাত্রীদের আচারণ
আচারণগত পরিবর্তনের নীতিমালা শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করে স্বচ্ছ চিন্তা-চেতনা, গভীর অনুভূতি ও সুষ্ঠু কর্মকা-ের মাধ্যমে সমাজের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
কম্পিউটার শিক্ষা
সকল শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রাথমিক প্রশিক্ষণে প্রকৃত দক্ষতা ও গভীর আন্তরিকতা প্রর্দশন করবে, তাদেরকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হবে। স্কুলে একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ কোচিং
নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র ¯ু‹ল সার্টিফিকেট ও এস.এস.সি পরীক্ষার্থী ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা আলাদা বিন্যাসে/ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে যাতে তারা মূল পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ক্লাসের বাইরেও বাড়তি ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম
একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে (Co-Curriculm) প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। প্রতিযোগীদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণের জন্য এবং তাদের শরীর ও মনের যথাযথ বিকাশের জন্য সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম সারা বছর পরিচালিত হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় সবচেয়ে কার্যকরী হল বিএনসিসি। তাছাড়া রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, হ্যান্ডবল ও বাস্কেটবল। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক ভাবের আদান-প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অতি উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিভিন্ন ঙপপধংংরড়হ এ বক্তৃতা-বক্তব্যের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। প্রত্যেক জাতীয় দিবস পালিত হয় অত্যন্ত ভা-গাম্ভির্য ও মর্যাদার সাথে। ছাত্র-শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ সম্মিলিত ভাবে এ সকল অনুষ্ঠানে বক্তৃতা বিবৃতি প্রদান করেন। ছাত্র-শিক্ষক মিলিত ভাবে এ সকল অনুষ্ঠানে গান, আবৃত্তি, গজল, হাম্দ, নাত ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করেন। হামদ্, নাত, কেরাত, বক্তৃতা, আবৃত্তি, গান, নাটক, কৌতুক ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের অন্তর্ভুক্ত।
শারীরিক শিক্ষা
শরীর ভালো থাকলে মন ভালো থাকে; আর মন ভালো থাকলে পাঠগ্রহণে আগ্রহ বাড়ে। তাই শরীর ভালো রাখতে খেলাধুলার বিকল্প কিছু নেই। স্কুলে প্রতিদিন এসেম্বলি করানো হয়। স্কুলের সম্মুখে অবস্থিত বিশাল মাঠে চলে বিএনসিসি ক্যাডেটদের মনোঞ্জ কুচকাওয়াজ, ছাত্র-ছাত্রীদের পিটিং, ফুটবল খেলা, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি খেলাধুলা।
ক্লাব ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম হিসাবে এ স্কুলে রয়েছে-
* বিএনসিসি (আর্মি প্লাটুন)
* স্পোকেন ইংলিশ ক্লাব
* আর্ট ও ক্রাফ্ট ক্লাব
* কম্পিউটার ক্লাব
* ল্যাংগুয়েজ ক্লাব
* ডিবেটিং ক্লাব
* সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্লাব
ক্লাব ও সোসাইটিগুলোর কার্যক্রম ১ম থেকে দশম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুলের প্রতিযোগিতা
প্রতি বছর বির্তক, বক্তৃতা ও উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, কুইজ, সাধারণ জ্ঞান, হামদ-নাত, আজান, কেরাত, গান ও চিত্রাঙ্কন এবং খেলাধুলা ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ধর্মীয় কর্মসূচি
প্রভাতি ও দিবা শাখার সমাবেশের সময় প্রতিদিন তরজমাসহ কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীসহ ধর্মীয় আলোচনা মিলাদ মাহফিল, হাম্দ-নাত ইত্যাদি অনুষ্ঠান হয় বিশেষ দিনগুলোতে। তাছাড়া দিবা শাখার মুসলিম শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে স্কুল সংলগ্ন মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে এবং প্রাত্যহিক সমাবেশের পর অনুবাদসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়।
মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
অনেক ছেলেমেয়ে তাদের বয়ঃসন্ধিতে কিছু মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাধারণভাবে ছেলেমেয়েরা এস.এস.সি পর্যায়েই বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়। হঠাৎ শারীরিক এ পরিবর্তন ছেলেমেয়েদের একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। এ সময় তারা বিভিন্ন আবেগঘটিত সমস্যা ও মানসিক যন্ত্রণায় পীড়িত হয়। অন্যদের মাঝে বলাতো দূরের কথা, তারা তাদের পিতা-মাতাকে এসব সমস্যা সম্পর্কে জানাতে লজ্জা বোধ করে। তাই তাদের সমস্যাগুলো তারা নিজেদের মাঝে রাখতে পছন্দ করে এবং এতে তাদের সমস্যাগুলো বেড়ে যায়। শিক্ষক, মাতা-পিতা ও অভিভাবকগণ একটু সর্তক হলেই শিশু কিশোরদের এই সকল কষ্ট থেকে উদ্ভূত সমস্যাগুলোকে চিহ্নত করতে পারেন। এ সকল ক্ষেত্রে সংকোচবোধ, একাকীত্ব, অমনোযোগিতা, অবাধ্যতা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, মনোযোগের অভাব ইত্যাদি আচরণ হলো তাদের মনস্ত¡াতিক সমস্যার পূর্ব লক্ষণ। এসব বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতা ও গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আধুনিক বাস্তবতায় বিশ্বাসী। তাই এ ধরনের শিক্ষার্থীদেরকে পরিচালনা করতে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অত্যন্ত অভিজ্ঞ উপদেষ্টাগণ নিয়োজিত থাকেন। তারা তাদের উপদেশ ও স্নেহ দিয়ে এ সকল শিক্ষার্থীকে মুক্তভাবে তাদের চরিত্র গঠনে সহায়তা করে।
স্কুল লাইব্রেরি
প্রতিষ্ঠানে একটি লাইব্রেরি আছে। লাইব্রেরিটি সকল প্রকারের রেফারেন্স বই (যথা ঃ এনসাইক্লোপিডিয়া/ জ্ঞানকোষ, সাধারণ জ্ঞানের বই, খেলাধুলা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) দ¦ারা সমৃদ্ধ। লাইব্রেটি সকাল ০৭:৩০ মি. থেকে বিকাল ০৫.৩০মি. প্রর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। তাছাড়াও প্রতি সপ্তাহের প্রতিটি কার্য দিবসে প্রত্যেক শ্রেণির জন্য একটি লাইব্রেরি ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্টেশনারি ও লাইব্রেরি
স্কুল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একটি স্টেশনারি ও লাইব্রেরি আছে। এখান থেকে শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার বই, স্কুলের মনোগ্রামসহ খাতা, স্কুল ডাইরি, কলম, পেন্সিল ও যাবতীয় স্টেশনারি দ্রব্য সুলভ মূল্যে সরবরাহ করা হয়।
স্কুল ক্যান্টিন
স্কুল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে একজন ঠিকাদার কর্তৃক পরিচালিত একটি ক্যান্টিন আছে। শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে টিফিন না আনলে ক্যান্টিনের সেবা গ্রহণ করতে পারে।
অভিভাবক দিবস
স্কুলে মাসে/র্টামে অভিভাবক দিবস পালিত হয়। অভিভাকগণকে তাদের নিজ নিজ সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি ও নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে শিক্ষকগণের সঙ্গে মতামত চিন্তা-চেতনার বিনিময় করতে সহায়ক।
বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ
মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদেরকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষ বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেয়া হয়।
ভর্তির নিয়মাবলি
সকল শ্রেণিতে ভর্তি অত্যন্ত কঠোরভাবে মেধার ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষার সমম্বিত ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তি করা হয়। ২০০ টাকার বিনিময়ে প্রাপ্ত নির্ধারিত ফরমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের উপর মোট ৫০ নম্বরের ভর্র্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সর্বশেষ পঠিত শ্রেণির পাঠ্যসূচি অনুসরণ করা হয়। ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসসি পাশের সনদ জমাদান সাপেক্ষে মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়।
স্কুলের পরীক্ষা কর্মসূচি
প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে ৩টি ঞবৎস পরীক্ষা বা সাময়িক পরীক্ষা থাকে। প্রত্যেক সাময়িকের পূর্বে দু’টি শ্রেণি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সদাচরণের উপর উৎসাহ সৃষ্টিকারী নাম্বার প্রদান করা হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন
শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন করা হয় ক্লাস পরীক্ষা ও ঞবৎস পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে।
শিক্ষার্থীর অগ্রগতি প্রতিবেদন
প্রত্যেক ঞবৎস এর শেষে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের সাথে শ্রেণি শিক্ষক/অধ্যক্ষ কর্তৃক মূল্যায়ন সম্বলিত ক্রমোন্নতির প্রতিবেদন অভিভাবকগণের নিকট পাঠানো হয়।
শ্রেণির প্রত্যেক শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা
একটি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যধিক হলে শিক্ষকগণ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি আলাদা করে নজর দেয়ার সুযোগ পান না। তাই অভিভাবকগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রত্যেক শাখায় ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩৫ জন রাখা হয়।
জীবনের অগ্রগতির পরিকল্পনা
বর্তমানে জীবন খুবই চ্যালেঞ্জিং এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ। যদিও বাংলাদেশ নিম্ন স্বাক্ষরতার হার সম্বলিত দেশসমূহের অন্যতম তথাপি জনসংখ্যার বিচারে এদেশের স্থান অনেক উপরে, বেকারত্ব এখানে প্রধান সমস্যা। তাই এদিক থেকে শিক্ষার্থীদের খুব সর্তক থাকা উচিত।
এ ব্যাপারে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের প্রবণতা, শারীরিক ও মানসিক প্রকৃতি আচার-আচারণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও উপদেশ দিয়ে থাকেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। বি.দ্রঃ প্লে-গ্রুপ, নার্সারি ও কেজি স্তরের প্রতিটি ক্লাস ২ জন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা এবং ১ জন আয়ার সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
ফি পরিশোধ পদ্ধতি
টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি সমূহ অবশ্যই প্রতি মাসের ৫ থেকে ১০ তারিখ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্কুলে অবস্থিত ব্যাংক এশিয়ার বুথে পরিশোধ করতে হবে। উক্ত তারিখে ছুটি থাকলে পরের দিন খোলার দিন গ্রহণ করা হয়। উল্লেখিত তারিখে বেতন পরিশোধ ব্যর্থ হলে পরবর্তী মাসে ৫০ টাকা জরিমানাসহ বেতন পরিশোধ করতে হয়। পর পর তিনমাস বেতন বকেয়া হলে হাজিরা খাতা থেকে নাম কাটা যাবে এবং এক্ষেত্রে পুনঃভর্তিফিসহ বেতন পরিশোধ করতে হয়।
পোশাক
স্কুল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত ও ডিজাইনকৃত পোশাক পরিধান করতে হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শাখায় স্কার্ফ ও মাধ্যমিক শাখায় বড় সাদা ওড়না পরিধান বাধ্যতামূলক। অন্য রংয়ের ওড়না বা স্কার্ফ পরিধান করা যাবে না। মেয়েরা মাথায় কালো ক্লিপ পরতে পারবে এবং চুলে সাদা ফিতা বাঁধতে পারবে।
জুতা
মেয়েদের কালো সু। ছেলেদের কালো সু।
পরিচয়পত্র
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ছাত্র-ছাত্রীকে অবশ্যই র্শাট/ফ্রকের বাম পকেটে তা প্রদর্শন করতে হয়।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ