বিশেষ খবর

এমবিবিএস, বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁসের গুজব রটালেই কঠোর ব্যবস্থা

ক্যাম্পাস ডেস্ক মেডিকেল কলেজ

এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা নিয়ে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, সব সময় জবাবদিহিতে বিশ্বাস করি। গত বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও তা পরবর্তীতে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। এবারও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এমন ষড়যন্ত্র হতে পারে। তাই এবার বাড়তি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা তদারকি করতে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘ওভারসাইট কমিটি’। রয়েছে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি ও মডারেটর। মেডিকেল কোচিং সেন্টারসমূহ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ প্রমুখ।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকতেই এবার বাড়তি নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কাজ করলে সমস্যা আসবেই। তবে যে কোনো কাজের জবাবদিহিতে বিশ্বাস করি। সামনে রয়েছে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। সাধারণত সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেধাবীরাই প্রাপ্ত মেধাক্রম অনুযায়ী মেডিকেল শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে। গত বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে একটি চক্র।
পরীক্ষার পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র তৈরি এবং সেগুলো পরীক্ষা সেন্টারে পাঠানোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষা সেন্টারসমূহে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে শক্তিশালী নিরাপত্তাবলয় থাকে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ছাড়াও বিভিন্ন স্তরে বেশ কয়েকটি কমিটির সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বাড়তি উদ্যোগ হিসেবে এবার ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা তদারকি করতে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘ওভারসাইট কমিটি’। এক প্রখ্যাত শিক্ষাবিদকে করা হয়েছে মডারেটর। ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ বলেন, মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার উঠিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি দেয়ার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান তৌফিক মারুফ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মেডিকেল শিক্ষা) আব্দুর রশিদ বলেন, এবার মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এমবিবিএসের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর ও বিডিএসের (ডেন্টাল) পরীক্ষা ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট ৩৭ কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। আবেদন করেছে ৯০ হাজার ৪২৬। গত বছর আবেদন করেছিল ৮৪ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী।


আরো সংবাদ

শিশু ক্যাম্পাস

বিশেষ সংখ্যা

img img img

আর্কাইভ